ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে মাদারগঞ্জে ভুরভুরা বিলের সড়কে ৬৭০ তালগাছের আঁটি রোপণ Logo কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মোসলেমাবাদের ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় Logo মাদারগঞ্জে গভীর রাতে গোয়ালঘরে আগুন, পুড়ে মারা গেল ৪ গরু Logo তিন দিন পর ঘরের মাটির নিচে মরিয়মের মরদেহ, মাদারগঞ্জে চাঞ্চল্য Logo নতুন সংসারের স্বপ্ন মাত্র দুই মাসেই শেষ, হাওয়াই ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় ওমর সানির মৃত্যু Logo মিটার নেই, সংযোগও নেই—তবুও ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল! Logo তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং Logo আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব? Logo বনলতা এক্সপ্রেসে’র সেই লাবণ্য এবার নায়িকা

মাদারগঞ্জে গভীর রাতে গোয়ালঘরে আগুন, পুড়ে মারা গেল ৪ গরু

আকাশ মন্ডল মাদারগঞ্জ (প্রতিনিধি)
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫০৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ গ্রামে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এতে গোয়ালঘরসহ গবাদিপশু হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গ্রামের বাসিন্দা নদর আলী ও তার পরিবার।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সিংদহ গ্রামের নদর আলীর বাড়ির গোয়ালঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে আগুন লাগায় মুহূর্তের মধ্যেই তা গোয়ালঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে স্থানীয়রাও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় গোয়ালঘরের ভেতরে থাকা চারটি গরুকে সময়মতো বের করে আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে আগুনে গরুগুলো পুড়ে মারা যায়। একই সঙ্গে গোয়ালঘরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বিদ্যুতের তারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

একসঙ্গে চারটি গরু হারিয়ে নদর আলীর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। পরিবারের গৃহপালিত গরুগুলো তাদের জন্য শুধু সম্পদই ছিল না, বরং ভবিষ্যতের আয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন ছিল। আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে সেই সম্পদ হারিয়ে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদর আলীর পরিবারের এই ক্ষতি পূরণ করা তাদের পক্ষে একা সম্ভব নয়। তাই সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত নদর আলীও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানান, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরু হারিয়ে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন এবং সম্ভব হলে সরকারি বা বেসরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করবেন।

এদিকে, এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়দের বিদ্যুতের তার, সংযোগ ও গোয়ালঘরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে গোয়ালঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত তার দ্রুত পরিবর্তন এবং রাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরুর মৃত্যুতে সিংদহ গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অসহায় নদর আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাদারগঞ্জে গভীর রাতে গোয়ালঘরে আগুন, পুড়ে মারা গেল ৪ গরু

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ গ্রামে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এতে গোয়ালঘরসহ গবাদিপশু হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গ্রামের বাসিন্দা নদর আলী ও তার পরিবার।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সিংদহ গ্রামের নদর আলীর বাড়ির গোয়ালঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে আগুন লাগায় মুহূর্তের মধ্যেই তা গোয়ালঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে স্থানীয়রাও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় গোয়ালঘরের ভেতরে থাকা চারটি গরুকে সময়মতো বের করে আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে আগুনে গরুগুলো পুড়ে মারা যায়। একই সঙ্গে গোয়ালঘরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বিদ্যুতের তারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

একসঙ্গে চারটি গরু হারিয়ে নদর আলীর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। পরিবারের গৃহপালিত গরুগুলো তাদের জন্য শুধু সম্পদই ছিল না, বরং ভবিষ্যতের আয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন ছিল। আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে সেই সম্পদ হারিয়ে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদর আলীর পরিবারের এই ক্ষতি পূরণ করা তাদের পক্ষে একা সম্ভব নয়। তাই সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত নদর আলীও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানান, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরু হারিয়ে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন এবং সম্ভব হলে সরকারি বা বেসরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করবেন।

এদিকে, এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়দের বিদ্যুতের তার, সংযোগ ও গোয়ালঘরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে গোয়ালঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত তার দ্রুত পরিবর্তন এবং রাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরুর মৃত্যুতে সিংদহ গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অসহায় নদর আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।