ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং Logo আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব? Logo বনলতা এক্সপ্রেসে’র সেই লাবণ্য এবার নায়িকা Logo ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ সাবেক কূটনীতিকের Logo নাটকীয় ড্রয়ে ইরাওলা যুগের সূচনা, লিভারপুলকে বাঁচালেন সোবোসলাই Logo পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ Logo বৃদ্ধার কাঁধে ছয় ক্ষুধার্ত মুখের ভার—চাল কুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে মোসলেমাবাদের অসহায় পরিবার Logo মেলান্দহের কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তারের সাফল্য, পদোন্নতি পেলেন উপসচিব পদে

তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং

আকাশ মন্ডল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় তীব্র দাবদাহের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ ভোগান্তি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ থেকে ১৯ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। কখনো বিদ্যুৎ এলেও ২০–২৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পরই আবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

গরমে নাকাল জনজীবন

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। দিনের প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতেও পারছেন না অনেকে।

বিদ্যুৎনির্ভর গৃহস্থালি কাজও ব্যাহত হচ্ছে। পানির মোটর চালাতে না পারায় অনেক এলাকায় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, দিনের প্রচণ্ড গরম এবং রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় বিদ্যুৎ সংকট তাদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

অভিভাবকরাও দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান, ওয়ার্কশপ, সেলুন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ এলেও অল্প সময় পর চলে যাওয়ায় কাজ ঠিকমতো শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন, এতে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ।

প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবার আওতায়

জানা গেছে, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস ও কড়া সাব-জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবার আওতায় রয়েছেন।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট।

তিনি বলেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

দ্রুত সমাধানের দাবি

তীব্র দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মাদারগঞ্জবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি মাদারগঞ্জের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের কথা বিবেচনা করে লোডশেডিং কমিয়ে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং

আপডেট সময় : ০৯:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় তীব্র দাবদাহের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ ভোগান্তি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ থেকে ১৯ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। কখনো বিদ্যুৎ এলেও ২০–২৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পরই আবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

গরমে নাকাল জনজীবন

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। দিনের প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতেও পারছেন না অনেকে।

বিদ্যুৎনির্ভর গৃহস্থালি কাজও ব্যাহত হচ্ছে। পানির মোটর চালাতে না পারায় অনেক এলাকায় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, দিনের প্রচণ্ড গরম এবং রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় বিদ্যুৎ সংকট তাদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

অভিভাবকরাও দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান, ওয়ার্কশপ, সেলুন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ এলেও অল্প সময় পর চলে যাওয়ায় কাজ ঠিকমতো শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন, এতে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ।

প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবার আওতায়

জানা গেছে, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস ও কড়া সাব-জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবার আওতায় রয়েছেন।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট।

তিনি বলেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

দ্রুত সমাধানের দাবি

তীব্র দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মাদারগঞ্জবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি মাদারগঞ্জের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের কথা বিবেচনা করে লোডশেডিং কমিয়ে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।