ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে মাদারগঞ্জে ভুরভুরা বিলের সড়কে ৬৭০ তালগাছের আঁটি রোপণ Logo কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মোসলেমাবাদের ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় Logo মাদারগঞ্জে গভীর রাতে গোয়ালঘরে আগুন, পুড়ে মারা গেল ৪ গরু Logo তিন দিন পর ঘরের মাটির নিচে মরিয়মের মরদেহ, মাদারগঞ্জে চাঞ্চল্য Logo নতুন সংসারের স্বপ্ন মাত্র দুই মাসেই শেষ, হাওয়াই ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় ওমর সানির মৃত্যু Logo মিটার নেই, সংযোগও নেই—তবুও ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল! Logo তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং Logo আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব? Logo বনলতা এক্সপ্রেসে’র সেই লাবণ্য এবার নায়িকা

সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক

আকাশ মন্ডল মাদারগঞ্জ (প্রতিনিধি)
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভুরভুরা বিলের মনোরম দৃশ্য, পাখির কলকাকলি ও সবুজের সমারোহে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা; ৩৮ বছর ধরে সেতু না থাকায় দুর্ভোগে ৮ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও পার্শ্ববর্তী ভুরভুরা বিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিকেলের পাখির ডাক, রাস্তার দুই পাশের সারি সারি গাছপালা, বিস্তীর্ণ বিলের মনোরম দৃশ্য আর নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তবে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে ভুরভুরা বিলের ওপর সেতু না থাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটন সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোসলেমাবাদ থেকে জোনাইল ফকিরবাড়ী-সংলগ্ন ভুরভুরা বিলের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি এ অঞ্চলের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যে আকর্ষণ বাড়ছে মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়কের

মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোসলেমাবাদ গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত একটি মনোরম স্থান হিসেবে। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ গাছপালা, খোলা আকাশ, সবুজ প্রকৃতি এবং পাশের ভুরভুরা বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি পুরো এলাকাকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য।

বিকেলের নরম আলো যখন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সড়কের ওপর পড়ে, তখন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। হালকা বাতাসে গাছের পাতা দোলা, পাখির কিচিরমিচির আর বিলের শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এলাকার সৌন্দর্য।

বর্ষা মৌসুমে ভুরভুরা বিল পানিতে পরিপূর্ণ হলে এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। সূর্যাস্তের সময় বিলের পানিতে আকাশের রঙিন প্রতিচ্ছবি এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে। শীতকালে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি এ এলাকাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিল মাদারগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রামীণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে।

১৯৮৮ সালের বন্যায় ভেঙে যায় সেতু, অপেক্ষা ৩৮ বছরের

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ ভুরভুরা বিলের ওপর সেতুর অভাব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির প্রবল চাপে বিলের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মিত হয়নি।

এ কারণে মোসলেমাবাদ, উত্তর জোড়খালী, চরবন্দ, নিশ্চিন্তপুর, কাতলামারী, জাঙ্গালিয়া, সিংদহ, গুনারীতলাসহ আশপাশের অন্তত আটটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলে ভোগান্তি বেড়ে যায়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে তৈরি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।

সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হলে মোসলেমাবাদ থেকে জোনাইল ফকিরবাড়ীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সেতু নির্মাণ হলে বাড়বে পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

স্থানীয়দের মতে, ভুরভুরা বিলের ওপর সেতু নির্মাণ শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সেতু নির্মিত হলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আরও বেশি মানুষ আসতে পারবেন।

পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে সড়কের পাশে চায়ের দোকান, খাবারের স্টল, ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

তবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এলাকাটিকে গড়ে তুলতে সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার, নিরাপদ চলাচল, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বসার স্থান, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

অনুমোদনের অপেক্ষায় সেতু নির্মাণের প্রকল্প

সেতু নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণের প্রকল্প ও ডিজাইন অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে টেন্ডার আহ্বান করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সেতু নির্মাণে খুলবে উন্নয়নের নতুন দুয়ার

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিল মাদারগঞ্জের একটি সম্ভাবনাময় সম্পদ। যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এটি স্থানীয় মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

তাই দীর্ঘ ৩৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভুরভুরা বিলের ওপর সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সেতুটি নির্মিত হলে একদিকে যেমন আট গ্রামের মানুষের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিলের পর্যটন সম্ভাবনাও পাবে নতুন গতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ভুরভুরা বিলের মনোরম দৃশ্য, পাখির কলকাকলি ও সবুজের সমারোহে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা; ৩৮ বছর ধরে সেতু না থাকায় দুর্ভোগে ৮ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও পার্শ্ববর্তী ভুরভুরা বিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিকেলের পাখির ডাক, রাস্তার দুই পাশের সারি সারি গাছপালা, বিস্তীর্ণ বিলের মনোরম দৃশ্য আর নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তবে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে ভুরভুরা বিলের ওপর সেতু না থাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটন সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোসলেমাবাদ থেকে জোনাইল ফকিরবাড়ী-সংলগ্ন ভুরভুরা বিলের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি এ অঞ্চলের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যে আকর্ষণ বাড়ছে মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়কের

মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোসলেমাবাদ গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত একটি মনোরম স্থান হিসেবে। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ গাছপালা, খোলা আকাশ, সবুজ প্রকৃতি এবং পাশের ভুরভুরা বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি পুরো এলাকাকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য।

বিকেলের নরম আলো যখন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সড়কের ওপর পড়ে, তখন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। হালকা বাতাসে গাছের পাতা দোলা, পাখির কিচিরমিচির আর বিলের শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এলাকার সৌন্দর্য।

বর্ষা মৌসুমে ভুরভুরা বিল পানিতে পরিপূর্ণ হলে এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। সূর্যাস্তের সময় বিলের পানিতে আকাশের রঙিন প্রতিচ্ছবি এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে। শীতকালে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি এ এলাকাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিল মাদারগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রামীণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে।

১৯৮৮ সালের বন্যায় ভেঙে যায় সেতু, অপেক্ষা ৩৮ বছরের

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ ভুরভুরা বিলের ওপর সেতুর অভাব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির প্রবল চাপে বিলের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মিত হয়নি।

এ কারণে মোসলেমাবাদ, উত্তর জোড়খালী, চরবন্দ, নিশ্চিন্তপুর, কাতলামারী, জাঙ্গালিয়া, সিংদহ, গুনারীতলাসহ আশপাশের অন্তত আটটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলে ভোগান্তি বেড়ে যায়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে তৈরি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।

সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হলে মোসলেমাবাদ থেকে জোনাইল ফকিরবাড়ীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সেতু নির্মাণ হলে বাড়বে পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

স্থানীয়দের মতে, ভুরভুরা বিলের ওপর সেতু নির্মাণ শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সেতু নির্মিত হলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আরও বেশি মানুষ আসতে পারবেন।

পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে সড়কের পাশে চায়ের দোকান, খাবারের স্টল, ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

তবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এলাকাটিকে গড়ে তুলতে সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার, নিরাপদ চলাচল, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বসার স্থান, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

অনুমোদনের অপেক্ষায় সেতু নির্মাণের প্রকল্প

সেতু নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণের প্রকল্প ও ডিজাইন অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে টেন্ডার আহ্বান করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সেতু নির্মাণে খুলবে উন্নয়নের নতুন দুয়ার

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিল মাদারগঞ্জের একটি সম্ভাবনাময় সম্পদ। যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এটি স্থানীয় মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

তাই দীর্ঘ ৩৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভুরভুরা বিলের ওপর সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সেতুটি নির্মিত হলে একদিকে যেমন আট গ্রামের মানুষের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক ও ভুরভুরা বিলের পর্যটন সম্ভাবনাও পাবে নতুন গতি।