ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে মাদারগঞ্জে ভুরভুরা বিলের সড়কে ৬৭০ তালগাছের আঁটি রোপণ Logo কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মোসলেমাবাদের ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় Logo মাদারগঞ্জে গভীর রাতে গোয়ালঘরে আগুন, পুড়ে মারা গেল ৪ গরু Logo তিন দিন পর ঘরের মাটির নিচে মরিয়মের মরদেহ, মাদারগঞ্জে চাঞ্চল্য Logo নতুন সংসারের স্বপ্ন মাত্র দুই মাসেই শেষ, হাওয়াই ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় ওমর সানির মৃত্যু Logo মিটার নেই, সংযোগও নেই—তবুও ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল! Logo তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং Logo আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব? Logo বনলতা এক্সপ্রেসে’র সেই লাবণ্য এবার নায়িকা

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে মাদারগঞ্জে ভুরভুরা বিলের সড়কে ৬৭০ তালগাছের আঁটি রোপণ

আকাশ মন্ডল মাদারগঞ্জ (প্রতিনিধি)
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫০৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কের দুই পাশে ৬৭০টি তালগাছের আঁটি রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দিনব্যাপী উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক উত্তম কুমার ধর-এর নিজ উদ্যোগে ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে দিনব্যাপী চলে তালগাছের আঁটি রোপণের কার্যক্রম। সড়কের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে এসব তালগাছের আঁটি রোপণ করা হয়।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তালগাছের আঁটি একত্র করে তা ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য উপস্থিত থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেন।

পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে বজ্রপাতও গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ পরিস্থিতিতে তালগাছসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কগুলোকে সবুজায়নের আওতায় আনার উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কটি স্থানীয় মানুষের চলাচলের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কের দুই পাশে রোপণ করা তালগাছগুলো ভবিষ্যতে বড় হলে পুরো সড়কজুড়ে সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সড়কের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

উদ্যোগের বিষয়ে যা বললেন উত্তম কুমার ধর

উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক উত্তম কুমার ধর জানান, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি নিজ উদ্যোগে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে তালগাছের আঁটি সংগ্রহ করে তা ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারি প্রয়োজন। সে বিষয়টিও মাথায় রেখে রোপণ করা প্রতিটি গাছের প্রতি নজর রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে রোপণ করা তালগাছগুলো নিয়মিত মনিটরিং করবেন। কোনো গাছ নষ্ট হলে বা কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোপণ করা ৬৭০টি তালগাছের আঁটি যেন ভবিষ্যতে বড় গাছে পরিণত হয়, সেজন্য ধারাবাহিকভাবে পরিচর্যা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৬৭০ তালগাছ ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়কের দুই পাশে রোপণ করা এসব তালগাছের আঁটি যথাযথভাবে বেড়ে উঠলে কয়েক বছর পর ভুরভুরা বিলের সড়কটি একটি মনোরম সবুজ সড়কে পরিণত হবে। বর্ষা, শীত কিংবা গ্রীষ্ম—বছরের বিভিন্ন সময়ে এই সড়কের দুই পাশে তালগাছের সারি স্থানীয় মানুষের চলাচলের পথকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

তালগাছ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি বৃক্ষ। একসময় গ্রামের রাস্তা, মাঠ ও বাড়ির আশপাশে প্রচুর তালগাছ দেখা গেলেও বর্তমানে বিভিন্ন কারণে অনেক জায়গায় তালগাছের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নতুন করে তালগাছ রোপণের এমন উদ্যোগকে দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা।

 

নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গাছের পরিচর্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ শুধু গাছের আঁটি রোপণ করলেই তা গাছে পরিণত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। রোপণের পর নিয়মিত নজরদারি, প্রয়োজন অনুযায়ী আগাছা পরিষ্কার, গাছের চারপাশের মাটি ঠিক রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো প্রয়োজন।

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে সাপ্তাহিক মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে রোপণ করা তালগাছের আঁটিগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়কজুড়ে সবুজের প্রত্যাশা

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কের দুই পাশে বর্তমানে যেসব তালগাছের আঁটি রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো যদি নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এ সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং একটি সবুজ ও মনোরম সড়ক হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।

একসঙ্গে ৬৭০টি তালগাছের আঁটি রোপণ নিঃসন্দেহে বড় একটি উদ্যোগ। তবে এসব গাছকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্থানীয় মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। গাছের ক্ষতি না করা, গবাদিপশুর হাত থেকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনের সময় পরিচর্যায় সহযোগিতা করার মাধ্যমে স্থানীয়রাও এ উদ্যোগকে সফল করতে পারেন।

উদ্যোক্তাদের আশা, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিয়মিত মনিটরিং ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় রোপণ করা ৬৭০টি তালগাছের আঁটি একদিন বড় গাছে পরিণত হবে। তখন ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে তৈরি হবে দীর্ঘ সবুজ সারি, যা পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শুধু ভুরভুরা বিলের সড়কেই সীমাবদ্ধ না থেকে মাদারগঞ্জের অন্যান্য সড়ক, খাল-বিলের পাড় ও খোলা জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ুক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে মাদারগঞ্জে ভুরভুরা বিলের সড়কে ৬৭০ তালগাছের আঁটি রোপণ

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কের দুই পাশে ৬৭০টি তালগাছের আঁটি রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দিনব্যাপী উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক উত্তম কুমার ধর-এর নিজ উদ্যোগে ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে দিনব্যাপী চলে তালগাছের আঁটি রোপণের কার্যক্রম। সড়কের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে এসব তালগাছের আঁটি রোপণ করা হয়।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তালগাছের আঁটি একত্র করে তা ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য উপস্থিত থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেন।

পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে বজ্রপাতও গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ পরিস্থিতিতে তালগাছসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কগুলোকে সবুজায়নের আওতায় আনার উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কটি স্থানীয় মানুষের চলাচলের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কের দুই পাশে রোপণ করা তালগাছগুলো ভবিষ্যতে বড় হলে পুরো সড়কজুড়ে সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সড়কের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

উদ্যোগের বিষয়ে যা বললেন উত্তম কুমার ধর

উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক উত্তম কুমার ধর জানান, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি নিজ উদ্যোগে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে তালগাছের আঁটি সংগ্রহ করে তা ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারি প্রয়োজন। সে বিষয়টিও মাথায় রেখে রোপণ করা প্রতিটি গাছের প্রতি নজর রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে রোপণ করা তালগাছগুলো নিয়মিত মনিটরিং করবেন। কোনো গাছ নষ্ট হলে বা কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোপণ করা ৬৭০টি তালগাছের আঁটি যেন ভবিষ্যতে বড় গাছে পরিণত হয়, সেজন্য ধারাবাহিকভাবে পরিচর্যা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৬৭০ তালগাছ ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়কের দুই পাশে রোপণ করা এসব তালগাছের আঁটি যথাযথভাবে বেড়ে উঠলে কয়েক বছর পর ভুরভুরা বিলের সড়কটি একটি মনোরম সবুজ সড়কে পরিণত হবে। বর্ষা, শীত কিংবা গ্রীষ্ম—বছরের বিভিন্ন সময়ে এই সড়কের দুই পাশে তালগাছের সারি স্থানীয় মানুষের চলাচলের পথকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

তালগাছ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি বৃক্ষ। একসময় গ্রামের রাস্তা, মাঠ ও বাড়ির আশপাশে প্রচুর তালগাছ দেখা গেলেও বর্তমানে বিভিন্ন কারণে অনেক জায়গায় তালগাছের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নতুন করে তালগাছ রোপণের এমন উদ্যোগকে দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা।

 

নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গাছের পরিচর্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ শুধু গাছের আঁটি রোপণ করলেই তা গাছে পরিণত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। রোপণের পর নিয়মিত নজরদারি, প্রয়োজন অনুযায়ী আগাছা পরিষ্কার, গাছের চারপাশের মাটি ঠিক রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো প্রয়োজন।

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে সাপ্তাহিক মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে রোপণ করা তালগাছের আঁটিগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়কজুড়ে সবুজের প্রত্যাশা

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভুরভুরা বিলের মাঝের সড়কের দুই পাশে বর্তমানে যেসব তালগাছের আঁটি রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো যদি নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এ সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং একটি সবুজ ও মনোরম সড়ক হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।

একসঙ্গে ৬৭০টি তালগাছের আঁটি রোপণ নিঃসন্দেহে বড় একটি উদ্যোগ। তবে এসব গাছকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্থানীয় মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। গাছের ক্ষতি না করা, গবাদিপশুর হাত থেকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনের সময় পরিচর্যায় সহযোগিতা করার মাধ্যমে স্থানীয়রাও এ উদ্যোগকে সফল করতে পারেন।

উদ্যোক্তাদের আশা, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিয়মিত মনিটরিং ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় রোপণ করা ৬৭০টি তালগাছের আঁটি একদিন বড় গাছে পরিণত হবে। তখন ভুরভুরা বিলের সড়কের দুই পাশে তৈরি হবে দীর্ঘ সবুজ সারি, যা পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শুধু ভুরভুরা বিলের সড়কেই সীমাবদ্ধ না থেকে মাদারগঞ্জের অন্যান্য সড়ক, খাল-বিলের পাড় ও খোলা জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ুক।