মাদারগঞ্জ ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo কাদাপানি আর খানাখন্দের দিন শেষ, বদলে যাচ্ছে জোনাইল বটতলা সড়ক Logo সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি Logo কৃষিকাজের সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল মাদারগঞ্জের ছাত্রনেতার Logo জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃ/ত্যু Logo মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক: প্রকৃতির বুকে গড়ে ওঠা এক নতুন সম্ভাবনার নাম Logo দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হলো রাস্তার উন্নয়ন কাজ, খুশির জোয়ার বারই পাড়ায় Logo স্বামী নিখোঁজ ৭ বছর ঝড়ে ভাঙলো শেষ আশ্রয় Logo বিদেশিনী স্ত্রী নিয়ে দেশে ফিরলেন মাদারগঞ্জের ইসমাইল

মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে বালিজুড়িতে জনতার ঢল

আকাশ মন্ডল মাদারগঞ্জ (প্রতিনিধি)
  • প্রকাশ : ০৫:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / ৫৪৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি - সংগৃহীত

দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বপ্ন, অবহেলা আর সীমাহীন দুর্ভোগের অবসান চেয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দিবাসী আবারও রাজপথে নেমেছেন। মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আজ ৯ মে শনিবার সকাল ১০টায় মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি বাজার চার রাস্তার মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল মানববন্ধন ও গণসমাবেশ।
মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহন চালক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মিছিল নিয়ে মানববন্ধনে যোগ দিতে আসেন। একপর্যায়ে পুরো বালিজুড়ি বাজার এলাকা মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার। সেখানে লেখা ছিল—
“অপেক্ষা আর কত?”,
“দ্বিতীয় যমুনা সেতু এখন সময়ের দাবি”,
“যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত চাই”,
“সেতু হলে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চল”,
“জনগণের প্রাণের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক” ইত্যাদি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যমুনা নদী দুই অঞ্চলের মানুষের মাঝে এখনও বড় এক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটি সেতুর অভাবে যুগের পর যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই মানুষকে পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষকরা বলেন, একটি সেতু শুধু যোগাযোগ সহজ করবে না, এটি শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনবে। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন নদী পারাপারের ভোগান্তির কারণে সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ ও সহজ হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন, “আমরা উন্নয়নের বাংলাদেশ চাই। একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের স্বপ্ন। আমরা আর বিচ্ছিন্ন থাকতে চাই না।”
কৃষকরা জানান, এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যমুনা নদী পার হয়ে কৃষিপণ্য বিভিন্ন জেলায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হয়। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে এবং কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, সেতু না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একটি সেতু নির্মাণ হলে মাদারগঞ্জ, সারিয়াকান্দি ও আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে এবার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত অনেকে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষও এই সেতুর স্বপ্ন দেখেছেন, আজ আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। আর কত অপেক্ষা করতে হবে? এখন সময় এসেছে বাস্তবে কাজ শুরু করার।”
অনেকেই বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়িত হলে জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
পুরো মানববন্ধন জুড়ে ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তবে মানুষের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ ও প্রত্যাশার শক্ত বার্তা। অংশগ্রহণকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা এক কণ্ঠে ঘোষণা দেন—
“মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি দ্বিতীয় যমুনা সেতু আমাদের প্রাণের দাবি। আর নয় আশ্বাস, এবার বাস্তবায়ন চাই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে বালিজুড়িতে জনতার ঢল

প্রকাশ : ০৫:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বপ্ন, অবহেলা আর সীমাহীন দুর্ভোগের অবসান চেয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দিবাসী আবারও রাজপথে নেমেছেন। মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আজ ৯ মে শনিবার সকাল ১০টায় মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি বাজার চার রাস্তার মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল মানববন্ধন ও গণসমাবেশ।
মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহন চালক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মিছিল নিয়ে মানববন্ধনে যোগ দিতে আসেন। একপর্যায়ে পুরো বালিজুড়ি বাজার এলাকা মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার। সেখানে লেখা ছিল—
“অপেক্ষা আর কত?”,
“দ্বিতীয় যমুনা সেতু এখন সময়ের দাবি”,
“যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত চাই”,
“সেতু হলে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চল”,
“জনগণের প্রাণের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক” ইত্যাদি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যমুনা নদী দুই অঞ্চলের মানুষের মাঝে এখনও বড় এক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটি সেতুর অভাবে যুগের পর যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই মানুষকে পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষকরা বলেন, একটি সেতু শুধু যোগাযোগ সহজ করবে না, এটি শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনবে। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন নদী পারাপারের ভোগান্তির কারণে সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ ও সহজ হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন, “আমরা উন্নয়নের বাংলাদেশ চাই। একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের স্বপ্ন। আমরা আর বিচ্ছিন্ন থাকতে চাই না।”
কৃষকরা জানান, এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যমুনা নদী পার হয়ে কৃষিপণ্য বিভিন্ন জেলায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হয়। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে এবং কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, সেতু না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একটি সেতু নির্মাণ হলে মাদারগঞ্জ, সারিয়াকান্দি ও আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে এবার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত অনেকে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষও এই সেতুর স্বপ্ন দেখেছেন, আজ আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। আর কত অপেক্ষা করতে হবে? এখন সময় এসেছে বাস্তবে কাজ শুরু করার।”
অনেকেই বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়িত হলে জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
পুরো মানববন্ধন জুড়ে ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তবে মানুষের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ ও প্রত্যাশার শক্ত বার্তা। অংশগ্রহণকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা এক কণ্ঠে ঘোষণা দেন—
“মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি দ্বিতীয় যমুনা সেতু আমাদের প্রাণের দাবি। আর নয় আশ্বাস, এবার বাস্তবায়ন চাই।”