মাদারগঞ্জ ০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo Coronavirus disease 2019 Logo স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মেলেনি রাস্তা, সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ Logo মাদারগঞ্জের যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি স্বজনদের Logo সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা- মোসলেমাবাদ মুসল্লিবাড়ির রাস্তায় জনদুর্ভোগ Logo ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মাদারগঞ্জ বিপর্যস্ত, স্থবির জনজীবন Logo ‎সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo চলচ্চিত্র সাংবাদিক চির কুমার আসলাম ইকবাল বাদলের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে হিট স্ট্রোকে আরও একজনের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মেলেনি রাস্তা, সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ

আকাশ মন্ডল, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : ০৫:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নং গুনারীতলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সোনারু পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে এলাকার প্রধান চলাচলের রাস্তাটি। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও একটি টেকসই ও চলাচল উপযোগী রাস্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শত শত মানুষ। বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় এবার অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রাস্তার কাদামাখা অংশে ধান চারা রোপণ করে তারা তুলে ধরেছেন উন্নয়নবঞ্চিত এই জনপদের বাস্তব চিত্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও এতটাই কর্দমাক্ত যে হাঁটাচলা করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। ফলে পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে যায় এবং যাত্রীদের নেমে ঠেলে গাড়ি পার করতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করলেও বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচন এলেই রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের আলো দেখে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ পথ।
গ্রামবাসীরা জানান, এই রাস্তা শুধু একটি গ্রামের নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পথ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে আহত হয় শিক্ষার্থীরা, নষ্ট হয়ে যায় বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস। ফলে শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকদের অবস্থাও কম দুর্বিষহ নয়। কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হয়। অনেক সময় যানবাহন না পাওয়ায় মাথায় বা কাঁধে করে উৎপাদিত ফসল বহন করতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, একটি ভালো রাস্তা থাকলে এলাকার কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হতো।
স্থানীয় প্রবীণরা বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে এই রাস্তার দুরবস্থা দেখে আসছি। স্বাধীনতার পর কত সরকার এল, কত চেয়ারম্যান-মেম্বার বদল হলো, কিন্তু আমাদের রাস্তার ভাগ্য আর বদলালো না। প্রতিবারই উন্নয়নের আশ্বাস শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই পাইনি।”
দীর্ঘদিনের এই অবহেলার প্রতিবাদে সম্প্রতি এলাকাবাসী রাস্তার ওপর ধান চারা রোপণ করেন। তাদের দাবি, রাস্তার অবস্থা এমন হয়েছে যে এটি আর রাস্তা বলে মনে হয় না, বরং ধানক্ষেতের মতো দেখায়। তাই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তারা রাস্তার কাদামাটিতে ধান চারা লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একজন যুবক বলেন, “যে রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারে না, সেই রাস্তায় ধান চাষই ভালো। তাই আমরা ধান চারা লাগিয়ে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছি যে এই রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই। আমরা উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত। এখন কাজ দেখতে চাই।”
আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচনের সময় সবাই এসে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কাউকে দেখা যায় না। আমরা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছি না, আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। একটি চলাচলের উপযোগী রাস্তা চাই।”
স্থানীয়দের মতে, জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই রাস্তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্বজনদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে না পারায় রোগীকে বিকল্প উপায়ে বহন করতে হয়। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
এদিকে, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃতি সন্তান এবং ২০২৬ সালের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এম টি হারুন অর রশীদ বলেন, “এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে আমি নিজ অর্থায়নে একটি পাইপ ক্রয় করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি, যাতে অন্তত সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ কিছুটা কমে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে দ্রুত রাস্তাটি পাকা ও টেকসইভাবে নির্মাণ করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি ভালো রাস্তার অপেক্ষায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, জনগণের এই ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
স্থানীয়রা জানান, এম টি হারুন অর রশীদের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় কিছুটা উপকার পেলেও রাস্তার মূল সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও পানি জমে আবারও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তাই এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সংস্কার নয়, বরং দ্রুত স্থায়ীভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
এলাকাবাসীর দাবি, নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। তারা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ইউনিয়ন পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের ভাষায়, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি একটি গ্রামের মানুষ কাদামাখা রাস্তার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করে, তাহলে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছেছে বলা যায় না। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত রাস্তা নির্মাণ চাই। নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার মানুষের এই ন্যায্য দাবির বাস্তবায়ন হোক।”
গ্রামবাসীদের প্রত্যাশা, তাদের এই অভিনব প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার বা পাকা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, সড়কে ধান চারা লাগিয়ে জানানো সোনারু পাড়ার মানুষের এই দীর্ঘদিনের আর্তনাদ কত দ্রুত প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কানে পৌঁছায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মেলেনি রাস্তা, সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ

প্রকাশ : ০৫:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নং গুনারীতলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সোনারু পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে এলাকার প্রধান চলাচলের রাস্তাটি। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও একটি টেকসই ও চলাচল উপযোগী রাস্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শত শত মানুষ। বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় এবার অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রাস্তার কাদামাখা অংশে ধান চারা রোপণ করে তারা তুলে ধরেছেন উন্নয়নবঞ্চিত এই জনপদের বাস্তব চিত্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও এতটাই কর্দমাক্ত যে হাঁটাচলা করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। ফলে পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে যায় এবং যাত্রীদের নেমে ঠেলে গাড়ি পার করতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করলেও বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচন এলেই রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের আলো দেখে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ পথ।
গ্রামবাসীরা জানান, এই রাস্তা শুধু একটি গ্রামের নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পথ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে আহত হয় শিক্ষার্থীরা, নষ্ট হয়ে যায় বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস। ফলে শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকদের অবস্থাও কম দুর্বিষহ নয়। কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হয়। অনেক সময় যানবাহন না পাওয়ায় মাথায় বা কাঁধে করে উৎপাদিত ফসল বহন করতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, একটি ভালো রাস্তা থাকলে এলাকার কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হতো।
স্থানীয় প্রবীণরা বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে এই রাস্তার দুরবস্থা দেখে আসছি। স্বাধীনতার পর কত সরকার এল, কত চেয়ারম্যান-মেম্বার বদল হলো, কিন্তু আমাদের রাস্তার ভাগ্য আর বদলালো না। প্রতিবারই উন্নয়নের আশ্বাস শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই পাইনি।”
দীর্ঘদিনের এই অবহেলার প্রতিবাদে সম্প্রতি এলাকাবাসী রাস্তার ওপর ধান চারা রোপণ করেন। তাদের দাবি, রাস্তার অবস্থা এমন হয়েছে যে এটি আর রাস্তা বলে মনে হয় না, বরং ধানক্ষেতের মতো দেখায়। তাই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তারা রাস্তার কাদামাটিতে ধান চারা লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একজন যুবক বলেন, “যে রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারে না, সেই রাস্তায় ধান চাষই ভালো। তাই আমরা ধান চারা লাগিয়ে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছি যে এই রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই। আমরা উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত। এখন কাজ দেখতে চাই।”
আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচনের সময় সবাই এসে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কাউকে দেখা যায় না। আমরা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছি না, আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। একটি চলাচলের উপযোগী রাস্তা চাই।”
স্থানীয়দের মতে, জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই রাস্তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্বজনদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে না পারায় রোগীকে বিকল্প উপায়ে বহন করতে হয়। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
এদিকে, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃতি সন্তান এবং ২০২৬ সালের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এম টি হারুন অর রশীদ বলেন, “এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে আমি নিজ অর্থায়নে একটি পাইপ ক্রয় করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি, যাতে অন্তত সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ কিছুটা কমে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে দ্রুত রাস্তাটি পাকা ও টেকসইভাবে নির্মাণ করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি ভালো রাস্তার অপেক্ষায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার অনুরোধ, জনগণের এই ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
স্থানীয়রা জানান, এম টি হারুন অর রশীদের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় কিছুটা উপকার পেলেও রাস্তার মূল সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও পানি জমে আবারও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তাই এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সংস্কার নয়, বরং দ্রুত স্থায়ীভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
এলাকাবাসীর দাবি, নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। তারা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ইউনিয়ন পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের ভাষায়, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি একটি গ্রামের মানুষ কাদামাখা রাস্তার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করে, তাহলে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছেছে বলা যায় না। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত রাস্তা নির্মাণ চাই। নিশ্চিন্তপুর সোনারু পাড়ার মানুষের এই ন্যায্য দাবির বাস্তবায়ন হোক।”
গ্রামবাসীদের প্রত্যাশা, তাদের এই অভিনব প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার বা পাকা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, সড়কে ধান চারা লাগিয়ে জানানো সোনারু পাড়ার মানুষের এই দীর্ঘদিনের আর্তনাদ কত দ্রুত প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কানে পৌঁছায়।