মাদারগঞ্জ ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo কাদাপানি আর খানাখন্দের দিন শেষ, বদলে যাচ্ছে জোনাইল বটতলা সড়ক Logo সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি Logo কৃষিকাজের সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল মাদারগঞ্জের ছাত্রনেতার Logo জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃ/ত্যু Logo মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক: প্রকৃতির বুকে গড়ে ওঠা এক নতুন সম্ভাবনার নাম Logo দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হলো রাস্তার উন্নয়ন কাজ, খুশির জোয়ার বারই পাড়ায় Logo স্বামী নিখোঁজ ৭ বছর ঝড়ে ভাঙলো শেষ আশ্রয় Logo বিদেশিনী স্ত্রী নিয়ে দেশে ফিরলেন মাদারগঞ্জের ইসমাইল

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি

শোয়াইব আহসান
  • প্রকাশ : ০২:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / ৫২৬ বার পড়া হয়েছে


‎মাদারগঞ্জ উপজেলার জোনাইল বটতলা থেকে মোসলেমাবাদ আইগেনি পাড়া মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একসময় চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই সড়কটি বর্তমানে যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে ছোট ছোট পুকুরের রূপ নেয়। এতে করে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
‎সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত হয়। ট্রাক, বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান, পিকআপসহ সবধরনের যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছে যে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো আরও ভেঙে পড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পুরো রাস্তা কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
‎সিএনজি চালকরা জানান, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গর্তে পড়ে প্রায়ই টায়ার ফেটে যায় কিংবা গাড়ির স্প্রিং ও সাসপেনশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বাড়ছে মেরামত খরচ। অনেক সময় যাত্রীরাও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করেন।
‎মোটরসাইকেল চালকরাও পড়েছেন চরম ঝুঁকিতে। বিশেষ করে রাতে বা বৃষ্টির সময় গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা। অনেকের মতে, ইতোমধ্যে এই সড়কে একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে। অটোরিকশা ও ভ্যানচালকদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
‎স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথাও উঠে এসেছে। প্রতিদিন কাদা ও পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় তাদের। বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ।
‎তবে সাধারণ মানুষের মতে, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে সামান্য সংস্কার কাজ করা হলেও তা টেকসই না হওয়ায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় রাস্তা। ফলে জনদুর্ভোগ কমছে না বরং দিন দিন আরও বাড়ছে।
‎ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাক ও পিকআপ ঠিকভাবে চলাচল করতে না পারায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
‎সাধারণ জনগণের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হোক। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি

প্রকাশ : ০২:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


‎মাদারগঞ্জ উপজেলার জোনাইল বটতলা থেকে মোসলেমাবাদ আইগেনি পাড়া মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একসময় চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই সড়কটি বর্তমানে যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে ছোট ছোট পুকুরের রূপ নেয়। এতে করে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
‎সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত হয়। ট্রাক, বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান, পিকআপসহ সবধরনের যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছে যে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো আরও ভেঙে পড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পুরো রাস্তা কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
‎সিএনজি চালকরা জানান, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গর্তে পড়ে প্রায়ই টায়ার ফেটে যায় কিংবা গাড়ির স্প্রিং ও সাসপেনশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বাড়ছে মেরামত খরচ। অনেক সময় যাত্রীরাও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করেন।
‎মোটরসাইকেল চালকরাও পড়েছেন চরম ঝুঁকিতে। বিশেষ করে রাতে বা বৃষ্টির সময় গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা। অনেকের মতে, ইতোমধ্যে এই সড়কে একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে। অটোরিকশা ও ভ্যানচালকদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
‎স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথাও উঠে এসেছে। প্রতিদিন কাদা ও পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় তাদের। বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ।
‎তবে সাধারণ মানুষের মতে, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে সামান্য সংস্কার কাজ করা হলেও তা টেকসই না হওয়ায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় রাস্তা। ফলে জনদুর্ভোগ কমছে না বরং দিন দিন আরও বাড়ছে।
‎ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাক ও পিকআপ ঠিকভাবে চলাচল করতে না পারায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
‎সাধারণ জনগণের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হোক। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।