সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক
- প্রকাশ : ০৩:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / ৫১০ বার পড়া হয়েছে
বিকেলের পাখির ডাক, ভুরভুরা বিলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আর সবুজের ছায়ায় প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা; তবে সেতু না থাকায় যোগাযোগ ও পর্যটন উন্নয়নে রয়ে গেছে বড় বাধা
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নং গুনারীতলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মোসলেমাবাদ গ্রাম আজ ধীরে ধীরে পরিচিতি লাভ করছে এক সম্ভাবনাময় গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে। গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া মনোরম “মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক” এবং এর পাশের বিস্তীর্ণ ভুরভুরা বিল প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে আকর্ষণের অন্যতম স্থান। প্রতিদিন বিকেলে এখানে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে, আবার কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে ছুটে আসেন এই সড়কে।
মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ গাছপালা পুরো এলাকাকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। বিকেলের নরম আলো যখন গাছের পাতার ফাঁক গলে রাস্তার ওপর পড়ে, তখন পুরো পরিবেশ যেন এক অপার্থিব রূপ ধারণ করে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা গাছপালা, পাখিদের কিচিরমিচির আর প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে রাখে।
সড়কের পাশেই অবস্থিত ভুরভুরা বিল এই সৌন্দর্যের প্রধান আকর্ষণ। বর্ষা মৌসুমে বিলটি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে পুরো এলাকা যেন জলরাশির এক বিশাল রাজ্যে পরিণত হয়। সূর্যাস্তের সময় বিলের পানিতে আকাশের রঙিন প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শীতকালে দেশীয় নানা প্রজাতির পাখির উপস্থিতি এলাকাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। পাখিদের ডাক আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতা মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ, যা শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি খুঁজতে আসা মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে প্রশান্তির ঠিকানা।

প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। অনেকেই সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। তরুণ-তরুণীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই এলাকার সৌন্দর্য। ফলে দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা।
তবে এত সম্ভাবনা ও সৌন্দর্যের মাঝেও একটি বড় সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে। ভুরভুরা বিলের ওপর এখনো কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হন। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়েও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয়দের মতে, ভুরভুরা বিলের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, বরং পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে সড়কের আশপাশে তেমন কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা পর্যটনকেন্দ্রিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস, ভুরভুরা বিলের ওপর একটি সেতু নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এখানে চায়ের দোকান, খাবারের স্টল, বিশ্রামাগারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এতে দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়কের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত সেতু নির্মাণ, রাস্তার পাশে আলোকসজ্জা, বসার স্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এটি শুধু মাদারগঞ্জ নয়, পুরো জামালপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, সবুজের সমারোহ, বিকেলের পাখির মধুর ডাক এবং ভুরভুরা বিলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ককে দিয়েছে এক বিশেষ পরিচয়। তবে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি—ভুরভুরা বিলের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। কারণ সেতু নির্মাণ হলেই এই সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র পাবে পূর্ণতা, বদলে যাবে পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্র এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে মাদারগঞ্জের মানুষের জন্য।










