মাদারগঞ্জ ১২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo কাদাপানি আর খানাখন্দের দিন শেষ, বদলে যাচ্ছে জোনাইল বটতলা সড়ক Logo সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি Logo কৃষিকাজের সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল মাদারগঞ্জের ছাত্রনেতার Logo জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃ/ত্যু Logo মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক: প্রকৃতির বুকে গড়ে ওঠা এক নতুন সম্ভাবনার নাম Logo দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হলো রাস্তার উন্নয়ন কাজ, খুশির জোয়ার বারই পাড়ায় Logo স্বামী নিখোঁজ ৭ বছর ঝড়ে ভাঙলো শেষ আশ্রয় Logo বিদেশিনী স্ত্রী নিয়ে দেশে ফিরলেন মাদারগঞ্জের ইসমাইল

বিদেশিনী স্ত্রী নিয়ে দেশে ফিরলেন মাদারগঞ্জের ইসমাইল

আকাশ মন্ডল মাদারগঞ্জ (প্রতিনিধি)
  • প্রকাশ : ০৫:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / ৫৩০ বার পড়া হয়েছে

ভালোবাসা কখনো ভাষা, দেশ কিংবা সংস্কৃতির বাধা মানে না—আর সেই কথারই যেন বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামের যুবক ইসমাইল। ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডের এক সুন্দরী তরুণীকে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন তিনি। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে যান কাতলামারী গ্রামের ইমান আলীর ছেলে ইসমাইল। শুরুতে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে প্রবাস জীবন কাটালেও ধীরে ধীরে সেখানে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন তিনি। কাজের সূত্রেই পরিচয় হয় পোল্যান্ডের তরুণী ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্সের সঙ্গে।
প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি ও হাজার মাইল দূরত্বের ব্যবধান থাকলেও ভালোবাসার টান তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন একে অপরকে জানাশোনার পর দুইজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইসমাইল ও ভেরোনিকা।
সম্প্রতি স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফেরেন ইসমাইল। বিদেশিনী বধূকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন শুধু একনজর বিদেশী বউকে দেখার জন্য। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ কৌতূহল নিয়ে জানতে চাইছেন—কীভাবে পরিচয়, কীভাবে প্রেম, আর কীভাবেই বা বিয়ে হলো।
গ্রামের অনেক বয়স্ক মানুষও এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি বলে জানান। স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো ইউরোপীয় তরুণী বধূ হয়ে এসেছে। বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই আনন্দের ও ব্যতিক্রমধর্মী।”
বিদেশিনী বধূ ভেরোনিকাও স্বামীর গ্রামের মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রামের পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, মানুষের সরলতা ও আতিথেয়তা তাকে আকৃষ্ট করেছে। স্থানীয় নারীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। যদিও ভাষাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারপরও ইশারা ও হাসির মাধ্যমে সবার সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
জানা গেছে, ভেরোনিকা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাবারের স্বাদও নিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামের রান্না, পিঠাপুলি ও দেশীয় খাবার তার বেশ পছন্দ হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এছাড়া গ্রামের খোলা পরিবেশ, নদী-খাল ও গ্রামীণ জীবনধারা তাকে ভীষণ আনন্দ দিচ্ছে।
ইসমাইল জানান,
“বিদেশে থাকাকালীন পরিচয় থেকে আমাদের সম্পর্কের শুরু। ধীরে ধীরে আমরা একে অপরকে বুঝতে শিখি। পরে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করি। স্ত্রীকে নিয়ে নিজের জন্মভূমিতে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষ যেভাবে আমাদের ভালোবাসা দিচ্ছে, সেটা সত্যিই অবিস্মরণীয়।”
ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরাও বিদেশিনী পুত্রবধূকে পেয়ে খুশি। তারা জানান, ভেরোনিকা খুবই ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের। অল্প সময়েই পরিবারের সবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
এদিকে ইসমাইল ও ভেরোনিকার ভালোবাসার গল্প এখন মাদারগঞ্জজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। অনেকে এই ঘটনাকে ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় তরুণদের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, “ভালোবাসা সত্যিই কোনো সীমানা মানে না। মাদারগঞ্জের ছেলে ইউরোপের মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে—এটা আমাদের জন্য গর্বেরও বিষয়।”
সব মিলিয়ে, পোল্যান্ডের তরুণী ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্স এখন শুধু ইসমাইলের স্ত্রীই নন, তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো এলাকার মানুষের আগ্রহ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদেশিনী স্ত্রী নিয়ে দেশে ফিরলেন মাদারগঞ্জের ইসমাইল

প্রকাশ : ০৫:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ভালোবাসা কখনো ভাষা, দেশ কিংবা সংস্কৃতির বাধা মানে না—আর সেই কথারই যেন বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামের যুবক ইসমাইল। ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডের এক সুন্দরী তরুণীকে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন তিনি। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে যান কাতলামারী গ্রামের ইমান আলীর ছেলে ইসমাইল। শুরুতে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে প্রবাস জীবন কাটালেও ধীরে ধীরে সেখানে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন তিনি। কাজের সূত্রেই পরিচয় হয় পোল্যান্ডের তরুণী ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্সের সঙ্গে।
প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি ও হাজার মাইল দূরত্বের ব্যবধান থাকলেও ভালোবাসার টান তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন একে অপরকে জানাশোনার পর দুইজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইসমাইল ও ভেরোনিকা।
সম্প্রতি স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফেরেন ইসমাইল। বিদেশিনী বধূকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন শুধু একনজর বিদেশী বউকে দেখার জন্য। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ কৌতূহল নিয়ে জানতে চাইছেন—কীভাবে পরিচয়, কীভাবে প্রেম, আর কীভাবেই বা বিয়ে হলো।
গ্রামের অনেক বয়স্ক মানুষও এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি বলে জানান। স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো ইউরোপীয় তরুণী বধূ হয়ে এসেছে। বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই আনন্দের ও ব্যতিক্রমধর্মী।”
বিদেশিনী বধূ ভেরোনিকাও স্বামীর গ্রামের মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রামের পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, মানুষের সরলতা ও আতিথেয়তা তাকে আকৃষ্ট করেছে। স্থানীয় নারীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। যদিও ভাষাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারপরও ইশারা ও হাসির মাধ্যমে সবার সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
জানা গেছে, ভেরোনিকা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাবারের স্বাদও নিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামের রান্না, পিঠাপুলি ও দেশীয় খাবার তার বেশ পছন্দ হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এছাড়া গ্রামের খোলা পরিবেশ, নদী-খাল ও গ্রামীণ জীবনধারা তাকে ভীষণ আনন্দ দিচ্ছে।
ইসমাইল জানান,
“বিদেশে থাকাকালীন পরিচয় থেকে আমাদের সম্পর্কের শুরু। ধীরে ধীরে আমরা একে অপরকে বুঝতে শিখি। পরে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করি। স্ত্রীকে নিয়ে নিজের জন্মভূমিতে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষ যেভাবে আমাদের ভালোবাসা দিচ্ছে, সেটা সত্যিই অবিস্মরণীয়।”
ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরাও বিদেশিনী পুত্রবধূকে পেয়ে খুশি। তারা জানান, ভেরোনিকা খুবই ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের। অল্প সময়েই পরিবারের সবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
এদিকে ইসমাইল ও ভেরোনিকার ভালোবাসার গল্প এখন মাদারগঞ্জজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। অনেকে এই ঘটনাকে ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় তরুণদের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, “ভালোবাসা সত্যিই কোনো সীমানা মানে না। মাদারগঞ্জের ছেলে ইউরোপের মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে—এটা আমাদের জন্য গর্বেরও বিষয়।”
সব মিলিয়ে, পোল্যান্ডের তরুণী ভেরোনিকা মারিয়া পিতলার্স এখন শুধু ইসমাইলের স্ত্রীই নন, তিনি হয়ে উঠেছেন পুরো এলাকার মানুষের আগ্রহ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।