মিটার নেই, সংযোগও নেই—তবুও ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল!
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫২৫ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আগেই গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিল তৈরির অভিযোগ উঠেছে। মিটার স্থাপন হয়নি, বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি—অথচ আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার।
ঘটনাটি ঘটেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়।
ভুক্তভোগী নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তাঁর বাসায় আগে থেকেই দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। এর বাইরে আরও একটি নতুন মিটার সংযোগের জন্য তিনি আবেদন করেন। নতুন সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়্যারিং বোর্ডও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। তবে এখনো নতুন মিটার স্থাপন করা হয়নি এবং বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি।
এর মধ্যেই তাঁর নামে আগস্ট মাসের ৬৯২ টাকার একটি বিদ্যুৎ বিল তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরুর আগেই এমন বিল পাওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর প্রশ্ন—যে সংযোগে এখনো মিটারই বসেনি, সেই সংযোগের নামে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল কীভাবে তৈরি হলো?
সরেজমিনে দেখা যায়, নিমাই চন্দ্র সরকারের বাসায় বর্তমানে চারটি মিটার রয়েছে। নতুন মিটার স্থাপনের জন্য আলাদা একটি ওয়্যারিং বোর্ড প্রস্তুত করে রাখা হলেও সেখানে নতুন কোনো মিটার স্থাপন করা হয়নি। অথচ তাঁর নামে মোট পাঁচটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নতুন সংযোগের নামে আগস্ট মাসের বিল ৬৯২ টাকা।
মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই বিল তৈরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন—কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে মিটার স্থাপনের আগেই একজন গ্রাহকের নামে বিদ্যুৎ বিল তৈরি হলো।
এ বিষয়ে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, নিমাই সরকারের সঙ্গে কথা বলেই বিল করা হয়েছে। তবে মিটার বা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও বিল তৈরি করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ভুল হয়ে গেছে।’
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম বলেন, সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে এমন সমস্যা হয়েছে। তবে মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই কীভাবে ওই গ্রাহকের নামে বিল তৈরি হলো, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘মিটার বা সংযোগ ছাড়া কীভাবে বিল আসে, তা আমার জানা নেই। উনাদের যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন।’
মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই গ্রাহকের নামে বিল তৈরির ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যারনির্ভর কার্যক্রম ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে বিলটি কীভাবে তৈরি হয়েছে তা পরিষ্কার করা হোক এবং ভুল বা অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।









