ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং Logo আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব? Logo বনলতা এক্সপ্রেসে’র সেই লাবণ্য এবার নায়িকা Logo ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ সাবেক কূটনীতিকের Logo নাটকীয় ড্রয়ে ইরাওলা যুগের সূচনা, লিভারপুলকে বাঁচালেন সোবোসলাই Logo পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ Logo বৃদ্ধার কাঁধে ছয় ক্ষুধার্ত মুখের ভার—চাল কুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে মোসলেমাবাদের অসহায় পরিবার Logo মেলান্দহের কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তারের সাফল্য, পদোন্নতি পেলেন উপসচিব পদে

বৃদ্ধার কাঁধে ছয় ক্ষুধার্ত মুখের ভার—চাল কুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে মোসলেমাবাদের অসহায় পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আকাশ মন্ডল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:

সংসারে অভাব-অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই, নেই স্থায়ী কোনো আয়-রোজগারের ব্যবস্থা। একবেলা খাবার জুটলেও পরের বেলার খাবার কীভাবে আসবে—এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ পশ্চিম পাড়ার একটি অসহায় পরিবারের।

পরিবারটির সবচেয়ে করুণ চিত্র হলো, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধা নারীই এখন পরিবারের খাবারের অন্যতম ভরসা। পরিবারের ছয়টি ক্ষুধার্ত মুখের খাবার জোগাড় করতে তাকে প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। কখনো ধান ঝাড়ার পর পড়ে থাকা চাল কুড়িয়ে আনেন, কখনো মানুষের বাড়িতে গিয়ে সামান্য সহযোগিতা চান। যা পান, সেটুকুই নিয়ে ফিরে আসেন ঘরে।

বৃদ্ধার বাড়ি ফেরার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে পরিবারের সদস্যরা। তিনি কখন ফিরবেন, সঙ্গে কিছু চাল বা খাবার নিয়ে আসবেন কি না—সেই আশাতেই কাটে সময়। কখনো সামান্য চাল পাওয়া যায়, আবার কখনো খালি হাতেই ফিরতে হয় তাকে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অনেক সময় ঘরে রান্না করার মতো চালও থাকে না। চুলায় আগুন জ্বালানোর মতো পরিস্থিতিও থাকে না। কোনো প্রতিবেশী বা স্থানীয় কেউ সহযোগিতা করলে সেদিন হয়তো খাবারের ব্যবস্থা হয়। পরের দিন আবার শুরু হয় একই অনিশ্চয়তা।

সরকারি সহায়তাও জোটেনি

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা সরকারি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি বলে জানান তারা। শুধু তাই নয়, পরিবারের বসবাসের জন্যও নেই থাকার মতো উপযুক্ত একটি ঘর। অনুপযুক্ত ও কষ্টকর পরিবেশে দিন কাটছে তাদের।

পরিবারটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে থাকলেও তাদের পাশে স্থায়ীভাবে দাঁড়ানোর মতো কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ তারা পাননি। ফলে খাবারের সংকট মেটাতে কখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে, আবার কখনো বৃদ্ধাকে চাল কুড়িয়ে আনতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, পরিবারটির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যোগ্যতা থাকলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা, খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই বয়সে বৃদ্ধার বিশ্রামে থাকার কথা। কিন্তু পরিবারের অভাবের কারণে তাকে খাবারের জন্য বাইরে বের হতে হয়। কখনো চাল কুড়িয়ে আনেন, আবার কখনো মানুষের কাছ থেকে সামান্য খাবার নিয়ে ফেরেন। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা ও একটি স্থায়ী আয়ের সুযোগ। সাময়িকভাবে কেউ সহযোগিতা করলে এক-দুই দিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়, কিন্তু এরপর আবার আগের সংকট ফিরে আসে। একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পেলে পরিবারটি কিছুটা স্বাবলম্বী হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়রা জানান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। খাদ্যসামগ্রী দিয়ে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবারটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি আয়ের ব্যবস্থা করা গেলে বৃদ্ধার ওপর থেকে পরিবারের খাবারের এই বিশাল দায়িত্ব কিছুটা কমতে পারে।

পরিবারটির সদস্য মো. শহিদুল্লাহ (৪৮), পিতা—মৃত খোকা মণ্ডল। তিনি জানান, সংসারে অভাবের কারণে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যেও কোনোভাবে দিন পার করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়, যে বয়সে একজন বৃদ্ধার বিশ্রাম নেওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাকে পরিবারের খাবারের জন্য পথে নামতে হচ্ছে। এক মুঠো চালের আশায় তার এই সংগ্রাম শুধু একটি পরিবারের অসহায়ত্বের চিত্র নয়; এটি গ্রামবাংলার দরিদ্র মানুষের কঠিন বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবারটির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। পরিবারটির বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা, খাদ্য সহায়তা দেওয়া এবং থাকার উপযুক্ত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা অনেকটাই কমতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বৃদ্ধার কাঁধে ছয় ক্ষুধার্ত মুখের ভার—চাল কুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে মোসলেমাবাদের অসহায় পরিবার

আপডেট সময় : ১১:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ মন্ডল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:

সংসারে অভাব-অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই, নেই স্থায়ী কোনো আয়-রোজগারের ব্যবস্থা। একবেলা খাবার জুটলেও পরের বেলার খাবার কীভাবে আসবে—এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ পশ্চিম পাড়ার একটি অসহায় পরিবারের।

পরিবারটির সবচেয়ে করুণ চিত্র হলো, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধা নারীই এখন পরিবারের খাবারের অন্যতম ভরসা। পরিবারের ছয়টি ক্ষুধার্ত মুখের খাবার জোগাড় করতে তাকে প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। কখনো ধান ঝাড়ার পর পড়ে থাকা চাল কুড়িয়ে আনেন, কখনো মানুষের বাড়িতে গিয়ে সামান্য সহযোগিতা চান। যা পান, সেটুকুই নিয়ে ফিরে আসেন ঘরে।

বৃদ্ধার বাড়ি ফেরার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে পরিবারের সদস্যরা। তিনি কখন ফিরবেন, সঙ্গে কিছু চাল বা খাবার নিয়ে আসবেন কি না—সেই আশাতেই কাটে সময়। কখনো সামান্য চাল পাওয়া যায়, আবার কখনো খালি হাতেই ফিরতে হয় তাকে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অনেক সময় ঘরে রান্না করার মতো চালও থাকে না। চুলায় আগুন জ্বালানোর মতো পরিস্থিতিও থাকে না। কোনো প্রতিবেশী বা স্থানীয় কেউ সহযোগিতা করলে সেদিন হয়তো খাবারের ব্যবস্থা হয়। পরের দিন আবার শুরু হয় একই অনিশ্চয়তা।

সরকারি সহায়তাও জোটেনি

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা সরকারি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি বলে জানান তারা। শুধু তাই নয়, পরিবারের বসবাসের জন্যও নেই থাকার মতো উপযুক্ত একটি ঘর। অনুপযুক্ত ও কষ্টকর পরিবেশে দিন কাটছে তাদের।

পরিবারটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে থাকলেও তাদের পাশে স্থায়ীভাবে দাঁড়ানোর মতো কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ তারা পাননি। ফলে খাবারের সংকট মেটাতে কখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে, আবার কখনো বৃদ্ধাকে চাল কুড়িয়ে আনতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, পরিবারটির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যোগ্যতা থাকলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা, খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই বয়সে বৃদ্ধার বিশ্রামে থাকার কথা। কিন্তু পরিবারের অভাবের কারণে তাকে খাবারের জন্য বাইরে বের হতে হয়। কখনো চাল কুড়িয়ে আনেন, আবার কখনো মানুষের কাছ থেকে সামান্য খাবার নিয়ে ফেরেন। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা ও একটি স্থায়ী আয়ের সুযোগ। সাময়িকভাবে কেউ সহযোগিতা করলে এক-দুই দিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়, কিন্তু এরপর আবার আগের সংকট ফিরে আসে। একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পেলে পরিবারটি কিছুটা স্বাবলম্বী হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়রা জানান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। খাদ্যসামগ্রী দিয়ে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবারটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি আয়ের ব্যবস্থা করা গেলে বৃদ্ধার ওপর থেকে পরিবারের খাবারের এই বিশাল দায়িত্ব কিছুটা কমতে পারে।

পরিবারটির সদস্য মো. শহিদুল্লাহ (৪৮), পিতা—মৃত খোকা মণ্ডল। তিনি জানান, সংসারে অভাবের কারণে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যেও কোনোভাবে দিন পার করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়, যে বয়সে একজন বৃদ্ধার বিশ্রাম নেওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাকে পরিবারের খাবারের জন্য পথে নামতে হচ্ছে। এক মুঠো চালের আশায় তার এই সংগ্রাম শুধু একটি পরিবারের অসহায়ত্বের চিত্র নয়; এটি গ্রামবাংলার দরিদ্র মানুষের কঠিন বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবারটির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। পরিবারটির বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা, খাদ্য সহায়তা দেওয়া এবং থাকার উপযুক্ত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা অনেকটাই কমতে পারে।