ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তীব্র দাবদাহে মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭–১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং Logo আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব? Logo বনলতা এক্সপ্রেসে’র সেই লাবণ্য এবার নায়িকা Logo ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ সাবেক কূটনীতিকের Logo নাটকীয় ড্রয়ে ইরাওলা যুগের সূচনা, লিভারপুলকে বাঁচালেন সোবোসলাই Logo পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ Logo বৃদ্ধার কাঁধে ছয় ক্ষুধার্ত মুখের ভার—চাল কুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে মোসলেমাবাদের অসহায় পরিবার Logo মেলান্দহের কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তারের সাফল্য, পদোন্নতি পেলেন উপসচিব পদে

মেলান্দহের কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তারের সাফল্য, পদোন্নতি পেলেন উপসচিব পদে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এসএসসি ১৯৯৮, এইচএসসি ২০০০—দীর্ঘ পথ পেরিয়ে উপসচিব নিলুফা আক্তার
আকাশ মন্ডল, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তার উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাঁর এই গৌরবময় অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সাবেক সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। একজন কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে যে পথচলা শুরু হয়েছিল মেলান্দহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, দীর্ঘ সময়ের কর্মজীবন পেরিয়ে সেই পথচলা আজ তাঁকে উপসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছে দিয়েছে।

নিলুফা আক্তারের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, মেলান্দহ উপজেলার মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁর সাফল্যে গর্বিত তাঁর স্বজনরা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আগামী দিনের কর্মজীবন ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষাজীবনের শুরু মেলান্দহে

নিলুফা আক্তারের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে। তিনি ১৯৯৮ ব্যাচে জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে গিয়ে ২০০০ ব্যাচে মির্জা কাসেম মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

এসএসসি ১৯৯৮ এবং এইচএসসি ২০০০—এই দুই শিক্ষাবর্ষ তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সেই সময়ের একজন শিক্ষার্থী থেকে আজকের উপসচিব হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং কর্মজীবনের নানা ধাপ অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা।

শিক্ষার্থী থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে

শিক্ষাজীবন শেষ করার পর নিলুফা আক্তার কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে তিনি সামনে এগিয়ে গেছেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সহজ বিষয় নয়। প্রতিদিন নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব, মানুষের সঙ্গে কাজ করা, সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একজন কর্মকর্তা তাঁর দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দেন।

নিলুফা আক্তারের দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় এবার উপসচিব পদে পদোন্নতি তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে যুক্ত হলো।

দীর্ঘ পথের সাফল্য

১৯৯৮ সালে এসএসসি এবং ২০০০ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন নিলুফা আক্তার।

একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেকে কর্মজীবনের বাস্তব দায়িত্ব—এই দীর্ঘ পথ কখনোই সহজ নয়। সফলতার জন্য প্রয়োজন হয় ধৈর্য, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিজের ওপর বিশ্বাস। নিলুফা আক্তারের বর্তমান অর্জন সেই দীর্ঘ পথচলারই একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল।

তাঁর এই সাফল্য বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার হতে পারে। মেলান্দহের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব—নিলুফা আক্তারের অর্জন তার একটি সুন্দর উদাহরণ।

পরিবারের আনন্দ ও গর্ব

নিলুফা আক্তারের উপসচিব পদে পদোন্নতির খবরে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। আমার ফুফাতো বোন নিলুফা আক্তারের এই অর্জনে আমরাও অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

পরিবারের একজন সদস্য যখন নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে উন্নীত হন, তখন সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাঁর এই সাফল্য পরিবারের ছোট-বড় সবার জন্যই আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার।

তাঁর এই অর্জন যেন আগামী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়—এটাই পরিবারের প্রত্যাশা।

মেলান্দহের জন্যও গর্বের খবর

মেলান্দহ উপজেলা থেকে অনেক কৃতি মানুষ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা, আইন, ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নিলুফা আক্তারের উপসচিব পদে পদোন্নতি স্থানীয় মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের একটি সংবাদ।

মেলান্দহের একজন সন্তান হিসেবে তাঁর এই সাফল্য উপজেলার তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করবে।

বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও তাঁর সাফল্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ। শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে একজন নারীও দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হতে পারেন—নিলুফা আক্তারের অর্জন সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করবে।

সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও গর্বের

জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে নিলুফা আক্তারের এই সাফল্য তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও আনন্দের বিষয়। একইভাবে মির্জা কাসেম মহিলা ডিগ্রি কলেজের ২০০০ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর অর্জন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছেও আনন্দের হতে পারে।

একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদোন্নতি পান, তখন তাঁর সাফল্যের সঙ্গে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্মৃতিও জড়িয়ে থাকে।

নতুন দায়িত্বে আরও সফলতার প্রত্যাশা

উপসচিব পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিলুফা আক্তারের কর্মজীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। নতুন এই দায়িত্বে তিনি যেন সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন—এটাই তাঁর পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।

দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও বেশি কাজে লাগুক এবং আগামী দিনগুলোতে তিনি আরও বড় সাফল্য অর্জন করুন—এই কামনা করি।

সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা

নিলুফা আক্তারের এই অর্জনে আমরা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর জীবনের আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর ও সফল হোক, কর্মজীবনে আরও সম্মান ও সাফল্য অর্জন করুন এবং মানুষের সেবা করার সুযোগ পান—এই দোয়া করি।

মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সফলতা দান করেন এবং নতুন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তৌফিক দেন।

সবশেষে, মেলান্দহের কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তারকে উপসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মেলান্দহের কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তারের সাফল্য, পদোন্নতি পেলেন উপসচিব পদে

আপডেট সময় : ১১:২৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

এসএসসি ১৯৯৮, এইচএসসি ২০০০—দীর্ঘ পথ পেরিয়ে উপসচিব নিলুফা আক্তার
আকাশ মন্ডল, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তার উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাঁর এই গৌরবময় অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সাবেক সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। একজন কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে যে পথচলা শুরু হয়েছিল মেলান্দহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, দীর্ঘ সময়ের কর্মজীবন পেরিয়ে সেই পথচলা আজ তাঁকে উপসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছে দিয়েছে।

নিলুফা আক্তারের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, মেলান্দহ উপজেলার মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁর সাফল্যে গর্বিত তাঁর স্বজনরা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আগামী দিনের কর্মজীবন ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষাজীবনের শুরু মেলান্দহে

নিলুফা আক্তারের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে। তিনি ১৯৯৮ ব্যাচে জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে গিয়ে ২০০০ ব্যাচে মির্জা কাসেম মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

এসএসসি ১৯৯৮ এবং এইচএসসি ২০০০—এই দুই শিক্ষাবর্ষ তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সেই সময়ের একজন শিক্ষার্থী থেকে আজকের উপসচিব হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং কর্মজীবনের নানা ধাপ অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা।

শিক্ষার্থী থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে

শিক্ষাজীবন শেষ করার পর নিলুফা আক্তার কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে তিনি সামনে এগিয়ে গেছেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সহজ বিষয় নয়। প্রতিদিন নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব, মানুষের সঙ্গে কাজ করা, সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একজন কর্মকর্তা তাঁর দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দেন।

নিলুফা আক্তারের দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় এবার উপসচিব পদে পদোন্নতি তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে যুক্ত হলো।

দীর্ঘ পথের সাফল্য

১৯৯৮ সালে এসএসসি এবং ২০০০ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন নিলুফা আক্তার।

একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেকে কর্মজীবনের বাস্তব দায়িত্ব—এই দীর্ঘ পথ কখনোই সহজ নয়। সফলতার জন্য প্রয়োজন হয় ধৈর্য, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিজের ওপর বিশ্বাস। নিলুফা আক্তারের বর্তমান অর্জন সেই দীর্ঘ পথচলারই একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল।

তাঁর এই সাফল্য বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার হতে পারে। মেলান্দহের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব—নিলুফা আক্তারের অর্জন তার একটি সুন্দর উদাহরণ।

পরিবারের আনন্দ ও গর্ব

নিলুফা আক্তারের উপসচিব পদে পদোন্নতির খবরে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। আমার ফুফাতো বোন নিলুফা আক্তারের এই অর্জনে আমরাও অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

পরিবারের একজন সদস্য যখন নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে উন্নীত হন, তখন সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাঁর এই সাফল্য পরিবারের ছোট-বড় সবার জন্যই আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার।

তাঁর এই অর্জন যেন আগামী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়—এটাই পরিবারের প্রত্যাশা।

মেলান্দহের জন্যও গর্বের খবর

মেলান্দহ উপজেলা থেকে অনেক কৃতি মানুষ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা, আইন, ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নিলুফা আক্তারের উপসচিব পদে পদোন্নতি স্থানীয় মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের একটি সংবাদ।

মেলান্দহের একজন সন্তান হিসেবে তাঁর এই সাফল্য উপজেলার তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করবে।

বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও তাঁর সাফল্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ। শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে একজন নারীও দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হতে পারেন—নিলুফা আক্তারের অর্জন সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করবে।

সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও গর্বের

জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে নিলুফা আক্তারের এই সাফল্য তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও আনন্দের বিষয়। একইভাবে মির্জা কাসেম মহিলা ডিগ্রি কলেজের ২০০০ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর অর্জন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছেও আনন্দের হতে পারে।

একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদোন্নতি পান, তখন তাঁর সাফল্যের সঙ্গে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্মৃতিও জড়িয়ে থাকে।

নতুন দায়িত্বে আরও সফলতার প্রত্যাশা

উপসচিব পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিলুফা আক্তারের কর্মজীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। নতুন এই দায়িত্বে তিনি যেন সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন—এটাই তাঁর পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।

দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও বেশি কাজে লাগুক এবং আগামী দিনগুলোতে তিনি আরও বড় সাফল্য অর্জন করুন—এই কামনা করি।

সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা

নিলুফা আক্তারের এই অর্জনে আমরা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর জীবনের আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর ও সফল হোক, কর্মজীবনে আরও সম্মান ও সাফল্য অর্জন করুন এবং মানুষের সেবা করার সুযোগ পান—এই দোয়া করি।

মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সফলতা দান করেন এবং নতুন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তৌফিক দেন।

সবশেষে, মেলান্দহের কৃতি সন্তান নিলুফা আক্তারকে উপসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।