মাদারগঞ্জ ০৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo Coronavirus disease 2019 Logo স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মেলেনি রাস্তা, সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ Logo মাদারগঞ্জের যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি স্বজনদের Logo সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা- মোসলেমাবাদ মুসল্লিবাড়ির রাস্তায় জনদুর্ভোগ Logo ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মাদারগঞ্জ বিপর্যস্ত, স্থবির জনজীবন Logo ‎সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo চলচ্চিত্র সাংবাদিক চির কুমার আসলাম ইকবাল বাদলের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে হিট স্ট্রোকে আরও একজনের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু

কৃষিকাজের সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল মাদারগঞ্জের ছাত্রনেতার

শোয়াইব আহসান
  • প্রকাশ : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / ৫৪০ বার পড়া হয়েছে



জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে ধানখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে জাতীয় ছাত্রশক্তি-এর এক তরুণ নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত মজনু মিয়া (২৪) কামারপাড়া এলাকার বাচ্চু মণ্ডলের ছেলে এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে নিজের বাড়ির পাশের ধানখেতে কৃষিকাজ করছিলেন মজনু মিয়া। কয়েকদিনের টানা গরমের পর দুপুর থেকেই আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। মাঝেমধ্যে হালকা বাতাস বইলেও কৃষকরা তখনও মাঠে কাজ করছিলেন। জীবিকার তাগিদে অন্য দিনের মতো সেদিনও মাঠে নেমেছিলেন মজনু।
একপর্যায়ে হঠাৎ করেই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। চারদিকে কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। শুরু হয় দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে কয়েকবার বিকট শব্দে বজ্রপাত হচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ একটি শক্তিশালী বজ্রপাত মজনু মিয়ার খুব কাছে আঘাত হানে। বজ্রাঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলের পাশেই কাজ করা কয়েকজন কৃষক প্রথমে বিষয়টি টের পান। তারা দৌড়ে গিয়ে মজনুকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বজ্রপাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মজনুর মৃত্যুর খবর মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মায়ের কান্না আর পরিবারের স্বজনদের আর্তনাদে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের খুবই আদরের সন্তান ছিলেন মজনু। সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
রাজনীতিতে তরুণ হলেও এলাকায় বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন মজনু মিয়া। জাতীয় ছাত্রশক্তি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। এলাকার তরুণদের সংগঠিত করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন মানবিক কাজে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানান সহকর্মীরা।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, “মজনু ভাই খুবই সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন না। গ্রামের যেকোনো সমস্যা বা মানুষের বিপদে সবার আগে এগিয়ে যেতেন। এমন মৃত্যু সত্যিই কষ্টের।”
আরেকজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই ঘটনা আবারও সেটাই মনে করিয়ে দিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি তরতাজা প্রাণ চলে গেল।”
এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, ধানখেত, নদীপাড় কিংবা বড় গাছের নিচে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ ভবন বা আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মজনু মিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় ছাত্রশক্তি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, একজন পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় তরুণকে হারিয়ে পুরো কামারপাড়া গ্রাম আজ স্তব্ধ। গ্রামের মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা—কয়েক মুহূর্তের বজ্রপাত কেড়ে নিল একটি পরিবারের স্বপ্ন, এক মায়ের বুকের ধন এবং এলাকার এক পরিচিত তরুণ মুখকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কৃষিকাজের সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল মাদারগঞ্জের ছাত্রনেতার

প্রকাশ : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬



জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে ধানখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে জাতীয় ছাত্রশক্তি-এর এক তরুণ নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত মজনু মিয়া (২৪) কামারপাড়া এলাকার বাচ্চু মণ্ডলের ছেলে এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে নিজের বাড়ির পাশের ধানখেতে কৃষিকাজ করছিলেন মজনু মিয়া। কয়েকদিনের টানা গরমের পর দুপুর থেকেই আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। মাঝেমধ্যে হালকা বাতাস বইলেও কৃষকরা তখনও মাঠে কাজ করছিলেন। জীবিকার তাগিদে অন্য দিনের মতো সেদিনও মাঠে নেমেছিলেন মজনু।
একপর্যায়ে হঠাৎ করেই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। চারদিকে কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। শুরু হয় দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে কয়েকবার বিকট শব্দে বজ্রপাত হচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ একটি শক্তিশালী বজ্রপাত মজনু মিয়ার খুব কাছে আঘাত হানে। বজ্রাঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলের পাশেই কাজ করা কয়েকজন কৃষক প্রথমে বিষয়টি টের পান। তারা দৌড়ে গিয়ে মজনুকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বজ্রপাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মজনুর মৃত্যুর খবর মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মায়ের কান্না আর পরিবারের স্বজনদের আর্তনাদে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের খুবই আদরের সন্তান ছিলেন মজনু। সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
রাজনীতিতে তরুণ হলেও এলাকায় বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন মজনু মিয়া। জাতীয় ছাত্রশক্তি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। এলাকার তরুণদের সংগঠিত করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন মানবিক কাজে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানান সহকর্মীরা।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, “মজনু ভাই খুবই সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন না। গ্রামের যেকোনো সমস্যা বা মানুষের বিপদে সবার আগে এগিয়ে যেতেন। এমন মৃত্যু সত্যিই কষ্টের।”
আরেকজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই ঘটনা আবারও সেটাই মনে করিয়ে দিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি তরতাজা প্রাণ চলে গেল।”
এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, ধানখেত, নদীপাড় কিংবা বড় গাছের নিচে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ ভবন বা আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মজনু মিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় ছাত্রশক্তি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, একজন পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় তরুণকে হারিয়ে পুরো কামারপাড়া গ্রাম আজ স্তব্ধ। গ্রামের মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা—কয়েক মুহূর্তের বজ্রপাত কেড়ে নিল একটি পরিবারের স্বপ্ন, এক মায়ের বুকের ধন এবং এলাকার এক পরিচিত তরুণ মুখকে।