মাদারগঞ্জ ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo সংসদে পাকরুল নদী ভাঙন নিয়ে জোরালো বক্তব্য, মাদারগঞ্জবাসীর দুর্দশা তুলে ধরলেন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল Logo মেলান্দহে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু, আহত ১ Logo পারিবারিক দায়িত্ব পালনে রাজনীতিকে ‘বিদায়’ জানালেন ছাত্রদল নেতা বাহারম Logo নিজ বাসায় চিরকুটসহ ঢাবি শিক্ষার্থীর লা-শ Logo মাদারগঞ্জ ক্রীড়া পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে আল আমিন তালুকদার মনোনীত Logo যুক্তরাষ্ট্রে মাদারগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী লিমনকে হত্যা, নেপথ্যে রুমমেটের সঙ্গে আর্থিক বিরোধ Logo ওএমআর সংশোধন না করায় ফল বিপর্যয়ের শঙ্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাইজা Logo মাদারগঞ্জবাসী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য জরুরী বার্তা Logo লোডশেডিং নিয়ে সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী Logo মাদারগঞ্জের গুনারীতলা গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত জামালপুর: দিনে-রাতে ভয়াবহ লোড শেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশ : ০২:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৬২ বার পড়া হয়েছে

ছবি- সংগৃহিত

সারাদেশের মতো জামালপুর জেলাজুড়ে বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তীব্র তাপপ্রবাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোড শেডিং, যা মাদারগঞ্জসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শহর এলাকায় দিনে গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা লোড শেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; সেখানে দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যরাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বর্তমানে এই বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং ডলার সংকটের কারণে কয়লা ও গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহ। জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি অভাবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বাধ্য হয়ে ঘনঘন লোড শেডিং বা ‘লোড ম্যানেজমেন্ট’ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ঘাটতি থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন জামালপুরের বোরো চাষিরা। চলতি সেচ মৌসুমে ধান খেতে নিরবচ্ছিন্ন পানির প্রয়োজন হলেও বিদ্যুতের অভাবে সেচ পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, গভীর রাতে যখন সেচ দেওয়ার কথা, তখন বিদ্যুৎ থাকছে না, ফলে অনেক জায়গায় খেত শুকিয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জেলাবাসী দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, অন্যথায় কৃষি ও জনজীবনে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত জামালপুর: দিনে-রাতে ভয়াবহ লোড শেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশ : ০২:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশের মতো জামালপুর জেলাজুড়ে বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তীব্র তাপপ্রবাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোড শেডিং, যা মাদারগঞ্জসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শহর এলাকায় দিনে গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা লোড শেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; সেখানে দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যরাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বর্তমানে এই বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং ডলার সংকটের কারণে কয়লা ও গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহ। জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি অভাবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বাধ্য হয়ে ঘনঘন লোড শেডিং বা ‘লোড ম্যানেজমেন্ট’ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ঘাটতি থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন জামালপুরের বোরো চাষিরা। চলতি সেচ মৌসুমে ধান খেতে নিরবচ্ছিন্ন পানির প্রয়োজন হলেও বিদ্যুতের অভাবে সেচ পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, গভীর রাতে যখন সেচ দেওয়ার কথা, তখন বিদ্যুৎ থাকছে না, ফলে অনেক জায়গায় খেত শুকিয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জেলাবাসী দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, অন্যথায় কৃষি ও জনজীবনে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।