সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা- মোসলেমাবাদ মুসল্লিবাড়ির রাস্তায় জনদুর্ভোগ
- প্রকাশ : ০২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ৫০৭ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নং গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের মুসল্লিবাড়ি জামে মসজিদের পাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের ওপর পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহারকারী মুসল্লি, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু ও সাধারণ পথচারীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের পাশের সড়কের বেশ কিছু অংশ হাঁটুসমান কাদা-পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বই বোঝা যায় না। পানি জমে থাকায় সড়কটি যেন ছোট একটি খালে পরিণত হয়েছে। পথচারীরা কষ্ট করে চলাচল করলেও মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় চালকরা ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে রাতে কিংবা ভোরবেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি গ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। মুসল্লিবাড়ি জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মুসল্লিদের এই পথ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু বর্ষা এলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে মসজিদে যেতে হয়। অনেক বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি এই কারণে মসজিদে যেতে পারেন না।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও কম নয়। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কাদা-পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, আবার অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হয়। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা চলে আসলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সড়কের পাশে ড্রেন বা পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে দিনের পর দিন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে রাস্তার মাটি নরম হয়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু চলাচলেই সমস্যা নয়, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশে থাকা বসতবাড়িগুলোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসী বলেন, “আমরা কোনো বিলাসবহুল রাস্তা চাই না, শুধু এমন একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাই যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যায় এবং মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, অল্প কিছু ব্যয়ে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং সড়কটি সংস্কার করা হলে বহু বছরের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো সম্ভব। তাই তারা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, বর্ষা মৌসুম চলাকালীন আর দেরি না করে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা হোক। অন্যথায় প্রতিটি বৃষ্টিতেই সাধারণ মানুষকে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে, যা একটি জনবহুল গ্রামের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।










