১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মাদারগঞ্জ বিপর্যস্ত, স্থবির জনজীবন
- প্রকাশ : ০৪:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / ৫১১ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে কার্যত স্থবির করে তুলেছে। গত কয়েকদিন ধরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছেন। বিদ্যুতের এমন অস্বাভাবিক ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প—সবখানেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক এলাকায় একটানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুৎ ফিরে আসে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য। এরপর আবার শুরু হয় দীর্ঘ লোডশেডিং। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ সীমাহীন আকার ধারণ করেছে। রাতেও বিদ্যুতের একই অবস্থা থাকায় মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। অনেক পরিবারকে রাতভর হাতপাখা দিয়ে সময় কাটাতে হচ্ছে।
মাদারগঞ্জ বাজার, জোনাইল, গুনারীতলা, বালিজুড়ী, চরপাকেরদহ, আদারভিটা, ঝাউগড়া, মহিষবাথানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, ফটোকপি, মোবাইল সার্ভিসিং, ওয়েল্ডিং, সেলুন, দর্জির দোকান, আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয় ব্যবসায়ীসহ বিদ্যুৎনির্ভর শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্য ও বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করতে পারছেন না। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতিতে তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প সময়মতো চালানো না যাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পাশাপাশি ছোট ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোর কাজও ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।
গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না তারা। বিদ্যুতের এমন চরম সংকটে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, দিনের চেয়ে রাতের লোডশেডিং আরও ভয়াবহ হওয়ায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াটের মতো। ফলে বাধ্য হয়েই এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারগঞ্জবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ এখন বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।










