মাদারগঞ্জ ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo মাদারগঞ্জের যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি স্বজনদের Logo সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা- মোসলেমাবাদ মুসল্লিবাড়ির রাস্তায় জনদুর্ভোগ Logo ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মাদারগঞ্জ বিপর্যস্ত, স্থবির জনজীবন Logo ‎সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo চলচ্চিত্র সাংবাদিক চির কুমার আসলাম ইকবাল বাদলের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে হিট স্ট্রোকে আরও একজনের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo কাদাপানি আর খানাখন্দের দিন শেষ, বদলে যাচ্ছে জোনাইল বটতলা সড়ক Logo সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি

মাদারগঞ্জে হিট স্ট্রোকে আরও একজনের মৃত্যু

আকাশ মন্ডল মাদারগঞ্জ (প্রতিনিধি)
  • প্রকাশ : ০৭:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পশ্চিম মোসলেমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সাদেক আকন্দের ছেলে টুনু আকন্দ (৫০) মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে মাদারগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরই মধ্যে গতকাল টুনু আকন্দ দৈনন্দিন কাজকর্মের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত ঘাম, শারীরিক দুর্বলতা ও অস্বস্তি অনুভব করার পর তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বজনরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পথিমধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয়রা তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, টুনু আকন্দ ছিলেন একজন সৎ, ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ। গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তিনি সবার সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করতেন এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পশ্চিম মোসলেমাবাদের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের বেলায় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিটস্ট্রোক একটি প্রাণঘাতী অবস্থা। অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ফলে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন পান করা, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

টুনু আকন্দের মৃত্যু চলমান তাপদাহের ভয়াবহতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে পশ্চিম মোসলেমাবাদসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদারগঞ্জে হিট স্ট্রোকে আরও একজনের মৃত্যু

প্রকাশ : ০৭:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পশ্চিম মোসলেমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সাদেক আকন্দের ছেলে টুনু আকন্দ (৫০) মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে মাদারগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরই মধ্যে গতকাল টুনু আকন্দ দৈনন্দিন কাজকর্মের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত ঘাম, শারীরিক দুর্বলতা ও অস্বস্তি অনুভব করার পর তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বজনরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পথিমধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয়রা তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, টুনু আকন্দ ছিলেন একজন সৎ, ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ। গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তিনি সবার সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করতেন এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পশ্চিম মোসলেমাবাদের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের বেলায় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিটস্ট্রোক একটি প্রাণঘাতী অবস্থা। অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ফলে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন পান করা, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

টুনু আকন্দের মৃত্যু চলমান তাপদাহের ভয়াবহতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে পশ্চিম মোসলেমাবাদসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।