মাদারগঞ্জ ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo মাদারগঞ্জের যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি স্বজনদের Logo সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা- মোসলেমাবাদ মুসল্লিবাড়ির রাস্তায় জনদুর্ভোগ Logo ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মাদারগঞ্জ বিপর্যস্ত, স্থবির জনজীবন Logo ‎সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo চলচ্চিত্র সাংবাদিক চির কুমার আসলাম ইকবাল বাদলের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে হিট স্ট্রোকে আরও একজনের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo কাদাপানি আর খানাখন্দের দিন শেষ, বদলে যাচ্ছে জোনাইল বটতলা সড়ক Logo সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি

মাদারগঞ্জে ঘনঘন লোডশেডিং, জনদুর্ভোগ চরমে, বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

আকাশ মন্ডল
  • প্রকাশ : ০৪:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি- সংগৃহিত

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলাজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছাড়া। ফলে কখন বিদ্যুৎ আসবে আর কখন চলে যাবে—তা কেউ বলতে পারছে না। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ সংকট তাদের পড়াশোনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার গভীর রাতেও থাকছে না বিদ্যুৎ। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে পড়তে বসলে কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। কেউ কেউ চার্জার লাইট, মোমবাতি, হারিকেন কিংবা টর্চলাইট জ্বালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে বসে পড়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেকে বলেন, ফ্যান ছাড়া গরমে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না, আবার অন্ধকারে চোখেরও সমস্যা হচ্ছে।
অভিভাবকরাও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা জানান, সারা বছর কষ্ট করে পড়াশোনা করার পর পরীক্ষার আগে এমন বিদ্যুৎ সংকট শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার কথাও ভাবছেন।
বিদ্যুৎ সংকট শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবার নষ্ট হচ্ছে, পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না, ফলে অনেক পরিবার পানির সংকটেও পড়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। মাদারগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ফটোকপি দোকান, কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টার, মোবাইল চার্জিং দোকান, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, সেলুন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দোকান মালিকরা জানান, গ্রাহক এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না।
কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। অনেক এলাকায় সেচ পাম্প বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময় সামনে রেখে অন্তত পরীক্ষার্থী পরিবারের কথা বিবেচনা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমানো, নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মাদারগঞ্জবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হোক। অন্তত এসএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হাজারো পরিবার স্বস্তি পাবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদারগঞ্জে ঘনঘন লোডশেডিং, জনদুর্ভোগ চরমে, বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ০৪:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলাজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছাড়া। ফলে কখন বিদ্যুৎ আসবে আর কখন চলে যাবে—তা কেউ বলতে পারছে না। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ সংকট তাদের পড়াশোনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার গভীর রাতেও থাকছে না বিদ্যুৎ। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে পড়তে বসলে কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। কেউ কেউ চার্জার লাইট, মোমবাতি, হারিকেন কিংবা টর্চলাইট জ্বালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে বসে পড়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেকে বলেন, ফ্যান ছাড়া গরমে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না, আবার অন্ধকারে চোখেরও সমস্যা হচ্ছে।
অভিভাবকরাও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা জানান, সারা বছর কষ্ট করে পড়াশোনা করার পর পরীক্ষার আগে এমন বিদ্যুৎ সংকট শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার কথাও ভাবছেন।
বিদ্যুৎ সংকট শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবার নষ্ট হচ্ছে, পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না, ফলে অনেক পরিবার পানির সংকটেও পড়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। মাদারগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ফটোকপি দোকান, কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টার, মোবাইল চার্জিং দোকান, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, সেলুন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দোকান মালিকরা জানান, গ্রাহক এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না।
কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। অনেক এলাকায় সেচ পাম্প বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময় সামনে রেখে অন্তত পরীক্ষার্থী পরিবারের কথা বিবেচনা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমানো, নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মাদারগঞ্জবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হোক। অন্তত এসএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হাজারো পরিবার স্বস্তি পাবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।