মাদারগঞ্জ ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম ::
Logo মাদারগঞ্জের যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি স্বজনদের Logo সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা- মোসলেমাবাদ মুসল্লিবাড়ির রাস্তায় জনদুর্ভোগ Logo ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মাদারগঞ্জ বিপর্যস্ত, স্থবির জনজীবন Logo ‎সেতুর অভাবে পূর্ণতা পাচ্ছে না মাদারগঞ্জের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মোসলেমাবাদ মেট্রো সড়ক Logo চলচ্চিত্র সাংবাদিক চির কুমার আসলাম ইকবাল বাদলের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে হিট স্ট্রোকে আরও একজনের মৃত্যু Logo মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজ্ঞান Logo মাদারগঞ্জের বেতাগায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশু ইয়ামিনের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo কাদাপানি আর খানাখন্দের দিন শেষ, বদলে যাচ্ছে জোনাইল বটতলা সড়ক Logo সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ‘পুকুর’! মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি

আশ্বাস মেলে, সেতু মেলে না: চরগোলাবাড়ীর তিন যুগের আক্ষেপ

শোয়াইব আহসান
  • প্রকাশ : ০১:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৫৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি- শোয়াইব আহসান সোহেল

জরুরি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চরগোলাবাড়ীর হাজারো মানুষ

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫নং জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী গ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের স্বপ্ন এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদের মানুষ প্রতিদিন নদী পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।

গ্রামের পশ্চিম পাশে, জোড়খালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০০ ফুট দূরে একটি নদী রয়েছে, যা পার হয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাট-বাজার, স্কুল ও কৃষিকাজে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে, ৫নং জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০০ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পারাপারে সীমাহীন কষ্টের সম্মুখীন হন। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপারই একমাত্র ভরসা, যা হয়ে ওঠে জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ এক অভিযান।

এই সেতুর নির্মাণকাজ একবার শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে বছরের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় নির্মাণাধীন অংশ ভেঙে যায় এবং এরপর আর তা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরপর কেটে গেছে তিন যুগ, কিন্তু বদলায়নি এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-গাথা।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও রাজনৈতিবিদরা বলেন, “আমরা ভোট দিই, আশা করি ব্রীজ হবে, কিন্তু প্রতিবছরই শুধু আশ্বাস মেলে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে কাদাপানিতে হাঁটে, কেউ কেউ নদীতে পড়ে আহতও হয়।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কৃষিপণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি জীবনেই এই সেতুর অভাব প্রকটভাবে অনুভব হচ্ছে। অনেকে বিকল্প পথ ধরে মাইলের পর মাইল ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এই ব্রিজের গুরুত্ব অপরিসীম

সরকার যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু না থাকাটা এক গভীর বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হলে অবিলম্বে এই সেতু নির্মাণ করা দরকার।

স্থানীয় জনগণ, সুশীল সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের জোর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় সংসদ সদস্য এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এবং সরকারের “গ্রাম হবে শহর”– এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আশ্বাস মেলে, সেতু মেলে না: চরগোলাবাড়ীর তিন যুগের আক্ষেপ

প্রকাশ : ০১:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

জরুরি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চরগোলাবাড়ীর হাজারো মানুষ

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫নং জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী গ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের স্বপ্ন এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদের মানুষ প্রতিদিন নদী পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।

গ্রামের পশ্চিম পাশে, জোড়খালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০০ ফুট দূরে একটি নদী রয়েছে, যা পার হয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাট-বাজার, স্কুল ও কৃষিকাজে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে, ৫নং জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০০ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পারাপারে সীমাহীন কষ্টের সম্মুখীন হন। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপারই একমাত্র ভরসা, যা হয়ে ওঠে জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ এক অভিযান।

এই সেতুর নির্মাণকাজ একবার শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে বছরের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় নির্মাণাধীন অংশ ভেঙে যায় এবং এরপর আর তা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরপর কেটে গেছে তিন যুগ, কিন্তু বদলায়নি এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-গাথা।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও রাজনৈতিবিদরা বলেন, “আমরা ভোট দিই, আশা করি ব্রীজ হবে, কিন্তু প্রতিবছরই শুধু আশ্বাস মেলে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে কাদাপানিতে হাঁটে, কেউ কেউ নদীতে পড়ে আহতও হয়।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কৃষিপণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি জীবনেই এই সেতুর অভাব প্রকটভাবে অনুভব হচ্ছে। অনেকে বিকল্প পথ ধরে মাইলের পর মাইল ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এই ব্রিজের গুরুত্ব অপরিসীম

সরকার যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু না থাকাটা এক গভীর বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হলে অবিলম্বে এই সেতু নির্মাণ করা দরকার।

স্থানীয় জনগণ, সুশীল সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের জোর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় সংসদ সদস্য এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এবং সরকারের “গ্রাম হবে শহর”– এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।